বাল্যবিবাহ রোধ,শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং ইতিবাচক প্যারেন্টিং স্লোগানকে ধারন করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুড ড্যাডি ক্যাম্পেইন-২০২৬।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গুড নেইবারস বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে গুডনেইবারস বাংলাদেশ কলাপাড়া সিডিপি’র এ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মিজ ঝর্ণা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান খান।এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান ও গুডনেইবারস কলাপাড়া সিডিসি’র সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম খান, মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বানী কান্ত সিকদার,কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও গুডনেইবারস কলাপাড়া সিডিসি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রিপন, গুডনেইবারস কলাপাড়া সিডিসি’র সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আইয়ুব আকন ফিরোজ, কন্যাশিশুদের প্রতিনিধি এবং বাবাদের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও গুডনেইবারস কলাপাড়া সিডিসি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রিপন বলেন,সমাজে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা সৃষ্টি করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বাবাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা, শিশুশ্রম বন্ধে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করা এবং শিশুশ্রম-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
কন্যা সন্তান বোঝা নয় উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান খান বলেন, একটি শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবারা যদি কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সচেতন হন, তাহলে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। বাল্যবিবাহ শুধু একটি শিশুর শিক্ষা বন্ধ করে দেয় না, বরং তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কন্যাশিশুকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গুড ড্যাডিদের অংশগ্রহণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিত তিনজন ‘গুড ড্যাডি’কে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্ব নয় ভালোবাসা সময় ও মানসিক সমর্থনও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রা।
