ফরিদপুর শহরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে সুমাইয়া (১৫) নামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক মাহেন্দ্রচালকসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া কল ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাতে বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাহেন্দ্রচালক ইকবাল (৩২) এবং তার সঙ্গী মজিদ বেপারী (২৯)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরী ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী (বর্তমানে পড়াশোনা বন্ধ)। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর সে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় দাদি ও ফুফুর সঙ্গে বসবাস করে আসছিল। তার বাবা মমিদুল ইসলাম ওরফে সানবির বর্তমানে একটি মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে পরিবারের লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সুমাইয়া। প্রথমে সে ধুলদি এলাকার পলাশ নামের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে যায়। তবে রাত বেশি হওয়ায় তাকে পরদিন সকালে আসতে বলা হয়। সেখান থেকে ফিরে ধুলদি স্ট্যান্ডে এসে কোতোয়ালি থানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি মাহেন্দ্রগাড়িতে ওঠে সে। গাড়িতে থাকা চালক ইকবাল ও যাত্রী মজিদ বেপারী তাকে থানায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পথে তারা খাবার খেয়ে নেওয়ার পর সুমাইয়া থানায় যেতে চাইলে অভিযুক্তরা দাবি করেন, “রাতে থানা খোলা থাকে না।” সকালে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তারা কিশোরীকে বিল মাহমুদপুর এলাকায় মজিদ বেপারীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
রাত পৌনে ১টার দিকে বিল মাহমুদপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মী ও এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তারা গাড়িটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চালক ইকবাল কিশোরীকে নিজের ‘স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। ইকবালের মিথ্যা ও সন্দেহজনক কথাবার্তায় এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে নিরাপদ হেফাজতে নেয় এবং অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে কোতোয়ালি থানার নারী ডেস্কে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

