ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পে-স্কেল ও অর্থনীতির হালচাল লেখক: আহছান উল্লাহ পারভেজ বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার

নাঈমুর রহমান
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

দীর্ঘ ১১ বছর পরে সরকারি চাকুরীজীবিরা নতুন পে-স্কেলের গেজেট পেলেন। সাধারণত প্রতি ৫-৭ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল হয়ে থাকে কিন্তু কোভিড-১৯, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, হরমুজ প্রণালী সংকট, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ভুল রাজস্বনীতি ও মূদ্রনীতি( সুদ হারের ৬-৯ ক্যাপ) ইত্যাদি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরে ব্যপক প্রভাব ফেলে। ​এসব কারণে ২০২৪ সালের আগস্টে দেখতে পাই লাফিয়ে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। দীর্ঘ ১৩ বছর পর মুদ্রাস্ফীতি হয় ১১.৬ শতাংশে। ডলারের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১২২ টাকা, আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসে ১৯ বিলিয়নে। তৈরি হয় বেকারত্ব, জিডিপির নিম্ন প্রবৃদ্ধি এবং সার্বিক অস্থিরতা। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অর্থনীতি আবার কিছুটা ঘুরে দাড়াতে শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌছায়। মুদ্রাস্ফীতি কমে আগস্ট ‘২৬-এ হয় ৮.২৬%।

​উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে স্থির আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের জীবিকা নির্বাহ করা অনেকটাই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তাই একটি নতুন পে-স্কেল সময়ের দাবিতে পরিণত হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-কমিশন গঠন করে এবং বর্তমান সরকার পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের গেজেট প্রণয়ন করেছে।

​এই নতুন পে-স্কেল যেভাবে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে:
​অর্থনীতির সহজ সূত্র হলো—জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ভর করে মূলত ৪টি বিষয়ের ওপর:Y = C + I + G + (X – M)
(জিডিপি= ভোগ ব্যয় + বিনিয়োগ + সরকারি ব্যয় + নিট রপ্তানি)

​সহজ কথায়, নতুন পে-স্কেলের ফলে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৩৭,০০০ কোটি টাকা। এর সরাসরি প্রভাব যেমন হবে:

​১. ক্রয়ক্ষমতা ও বাজার চাঙ্গা: ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবিদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। ফলে পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা উৎপাদকদের বেশি উৎপাদনের অনুপ্রেরণা দেবে এবং বাজারে গতি ফেরাবে।

২. ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি: আয় বাড়লে মানুষ বেশি ভোগ (Consume) করবে, যা সরাসরি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

৩. ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট নিরসন: বেতনের একটি অংশ কর্মচারীরা ব্যাংকে সঞ্চয় করবেন। ব্যাংকে তারল্য বাড়লে ব্যাংকগুলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য নতুন ঋণ দিতে সক্ষম হবে।

৪. রাজস্ব বৃদ্ধি: বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস বলেছিলেন—“অর্থনীতিকে সম্প্রসারিত করতে হলে মানুষের হাতে অর্থ দিতে হবে।” বেতন বাড়ায় সরকারের আয়কর রাজস্ব সংগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।

৫. আয় বৈষম্য নিরসন: বেসরকারি বা করপোরেট জবে সাধারণত সরকারি জবের তুলনায় বেশি বেতন হয়ে থাকে এবং প্রতিবছর বেতন ইনক্রিমেন্টও সরকারি চাকরির তুলনায় বেশি। ফলে সমাজে একটি আয় বৈষম্য চলতে থাকে। ইনকাম ইনইকুয়ালিটি পরিমাপ করা হয় গিনি সহগ দিয়ে যা শূন্য থেকে ১ এর মধ্যে হয়। শূন্য অর্থ কোন আয় বৈষম্য নেয় এবং ১ অর্থ সর্বোচ্চ আয় বৈষম্য।উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে গিনি সহগ বা Gini Coefficient ০.৪৯৯, যা উচ্চ আয় বৈষম্য নির্দেশ করে। নতুন পে-স্কেল সে বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব করবে।

তবে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীদের বাইরে আমাদের সমাজের একটি বড় অংশ খেটে খাওয়া মানুষ—কৃষক, শ্রমিক ও দিনমজুর। পে-স্কেলের সুফল যেন মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য সরকারকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) আরও প্রসারিত করতে বেশি বেশি কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া রাজস্বনীতি এবং মুদ্রানীতির সমন্বয় করতে হবে।

​সামগ্রিকভাবে, উপযুক্ত বাজার মনিটরিং এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে এই পে-স্কেল স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

আহছান উল্লাহ পারভেজ
বিএসএস, এমএসএস (অর্থনীতি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৪১ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার
প্রভাষক(অর্থনীতি), আশাশুনি সরকারি কলেজ।