ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে প্রান্ত মির্জা নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে নির্যাতন করে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ডিবি কার্যালয়ে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউসার প্রান্ত মির্জার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে সাজানো ‘অস্ত্র মামলায়’ ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রান্ত মির্জা বা তার পরিবার ওই টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ওসি আলমগীর হোসেনের সরাসরি নির্দেশে এসআই কাউসারের নেতৃত্বে প্রান্তের ওপর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ডিবির হেফাজতেই তার মৃত্যু ঘটে। ওসির ‘ডান হাত’ এসআই কাউসারের সিন্ডিকেট
বিভাগীয় ও স্থানীয় একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনের যাবতীয় অবৈধ আয়ের উৎস ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন এসআই কাউসার। জেলাজুড়ে তাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের মূল দিকগুলো মাসোহারা আদায়: জেলার বিভিন্ন মাদক স্পট ও জুয়ার বোর্ড থেকে নিয়মিত মাসোহারা তোলা। নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া। ওসির সমস্ত অনৈতিক বাণিজ্যের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন এই কাউসার।
ডিবি হেফাজতের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেলা পুলিশের ভেতরেও চরম কানাঘুষা চলছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ ডিপার্টমেন্টের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওসি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলে গুঞ্জন রয়েছে, ওসি আলমগীর জেলা পুলিশ সুপারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং তার বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট। এসপির এই ‘প্রশ্রয় ও নীরবতা’র কারণেই ডিবি ফরিদপুরে সাধারণ মানুষের ওপর দিনের পর দিন এমন অনৈতিক ও নিষ্ঠুর অত্যাচার চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
