ফরিদপুর শহরের সাধারণ মানুষের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিল কুখ্যাত ছিনতাইকারী “সিরিঞ্জ তুফান”। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল শহরবাসী। সাধারণ জনগণকে রক্ত ভর্তি সিরিঞ্জ দেখিয়ে জিম্মি করা এবং নারীদের হেনস্তাকারী এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে আজ আবারও গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এক অভিনব ও ভয়ানক কায়দায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল এই ‘সিরিঞ্জ তুফান’। পথচারী ও সাধারণ মানুষকে রক্ত ভর্তি সিরিঞ্জ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল, টাকা ও মানিব্যাগ হাতিয়ে নেওয়া ছিল তার প্রধান কাজ। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বা নির্জন রাস্তায় নারীদের আটকে শারীরিক হেনস্তা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালিয়ে ছিনতাই করত এই সন্ত্রাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও পুলিশ তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ পরবর্তীতে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ বা মামলা করতে সাহস না পাওয়ায় আইনি ফাঁকফোকরে বারবার ছাড়া পেয়ে যেতো সে। ছাড়া পেয়ে আবারও দ্বিগুণ উৎসাহে লিপ্ত হতো অপরাধে। সম্প্রতি তার এই ভয়ানক উৎপাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। সাধারণ মানুষের এই তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের বিষয়টি দ্রুততম সময়ে ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে।
অনলাইন ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আজ ফরিদপুর শহরের একটি বিশেষ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও সিরিঞ্জসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় সিরিঞ্জ তুফানকে। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘদিনের এই সিরিঞ্জ আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ায় ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে। ফরিদপুরের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। শহরের বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামীতেও ফরিদপুরকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশের এমন কঠোর ও আপসহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
