নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতি, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এসব জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি কোথাও কোথাও নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে একের পর এক দোকানপাট ও বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাটেশ্বরী বাজার এলাকায়ও সরকারি জায়গায় কয়েকটি পাকা ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি আরও ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিষখোলা গ্রামের আলতু মোল্যার ছেলে আসলাম মোল্যা, কামরুল মোল্যার ছেলে হাচিবুর রহমান, ওমর মোল্যার ছেলে জাকারিয়া মোল্যা ও লাল মিয়ার ছেলে শহিদসহ কয়েকজন সরকারি জায়গায় স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন। একইভাবে সাতবাড়িয়া এলাকাতেও সরকারি জমি দখল ও হস্তান্তর নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহাজাহান মোল্যা, রানা মোল্যা ও বাদশা মোল্যাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে চড়া মূল্যে জায়গা দেওয়া হচ্ছে এবং এসব জায়গায় নতুন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে সরকারি জায়গা বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতবাড়িয়া গ্রামের বাদশা মোল্যা। তিনি জানান, তারা কোনো অনুমতি না নিয়েই সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দখলে থাকা এক দরিদ্র ব্যক্তির জায়গায় প্রভাবশালী আলী শেখ তিনটি দোকান নির্মাণ করছেন। নির্মাণ শেষে একটি দোকান ওই ব্যক্তিকে দেওয়ার শর্তে কাজ চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পত্তি এভাবে বেদখল হয়ে গেলে একদিকে যেমন সরকারের সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন ও নদী-খাল সংরক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই দিনের পর দিন সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা বাড়ছে।
তারা দ্রুত সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি এবং আইনানুগভাবে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারীদের নোটিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রশাসনিকভাবে
কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

