বগুড়ায় একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বুনো টিয়া পাখি উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে এই পাখিগুলো জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পাখির সংখ্যা ১০৩টি এবং এগুলোকে অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুরভাবে প্লাস্টিকের খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার কারণে একটি বড়ো ধরনের বন্যপ্রাণী পাচারচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘আল বারাকা ট্রাভেলস’ নামের বাসটিতে তল্লাশি চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাসের সাইড বক্সের ভেতর থেকে মোট দশটি প্লাস্টিক খাঁচা বের করা হয়। এসব খাঁচার ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির বুনো টিয়া, যার মধ্যে মেথ টিয়া এবং লাল মাথা টিয়া প্রজাতির নর ও মাদা পাখি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরবর্তীতে উদ্ধার করা এই পাখিগুলোকে নিরাপদ পরিবেশে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এই পাখিগুলো মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় পাখি। খাবারের অন্বেষণে পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকালয়ের ভুট্টা বা মরিচক্ষেতে নেমে আসার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির লোভী ও অসাধু চক্র বুনো পাখিগুলো ফাঁদ পেতে ধরে থাকে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পাখি বহনকারী কোনো পাচারকারীকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাসটির চালক ও সুপারভাইজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং একটি সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নম্বরের সূত্র ধরে বন্যপ্রাণী পাচারকারী মূল চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। বন বিভাগের তরე আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
