মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ববাজারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দেশের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে জ্বালানির বাজারে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, বিশ্ববাজারের প্রধান এই জ্বালানি পণ্যের মূল্য একদিনেই প্রায় পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের উভয় প্রধান বেঞ্চমার্কের দর ব্যারেলপ্রতি একশো ডলারের মনস্তাত্ত্বিক বাঁধ ভেঙে অনেক ওপরে উঠে গেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা না গেলে জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রধান রুটগুলো দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে এক ধরণের বাড়তি উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা তেলের মজুদ বাড়াতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিকেই নয়, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ার নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদি তেলের বাজার এভাবে উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল থাকে, তবে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
