নব্বইয়ের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে এই প্রখ্যাত অভিনেতার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক চলে আসছে। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সম্প্রতি মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে, যা দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুর পর থেকেই পরিবার এবং ভক্তরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসলেও মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে যেখানে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়। তবে নিহত অভিনেতার পরিবার সেই প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং আদালতের শরণাপন্ন হয়ে রিভিশন আবেদন দাখিল করে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে এই মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়েরের আইনি পথ সুগম হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে করা সেই মামলায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে আসামি করা হয়, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তোলে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা মামলার কার্যক্রমে একটি বড় ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হলো। তবে মামলার এজহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং তাদের গ্রেফতারে বিলম্ব হওয়ায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ডনের গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আদালতের প্রতি নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে ডন এতদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে কেন আগে গ্রেপ্তার করা হলো না, এবং তিনি বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের আগে ডন গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন যে এই মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই এবং তিনি যেকোনো আইনি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এ ছাড়া সালমান শাহর ভক্তরাও দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
