ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আসামিদের গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতা ঘটাতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর

Bangladesh
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার আসামিদের সামগ্রিক গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। তার কাছে আসা বিভিন্ন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যে কোনো মুহূর্তে দেশে নাশকতা বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পাঁয়তারা করছে। এই ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসামিদের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সুরক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, বিচারাধীন আসামিদের যেকোনো অবৈধ তৎপরতা রোধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ঝুঁকি এড়াতে এই সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে প্রসিকিউশন পক্ষ।

এদিকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর ব্যানারে বেশ কিছু পরিবার সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় পরিদর্শন করেছে। সংগঠনটির সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে আসা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের স্বজন হারানোর বেদনা ও লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেছে। তদন্ত সংস্থা এসব পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান যে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫১ জন ব্যক্তির গুম হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে একই পদ্ধতিতে ব্যক্তিদের তুলে নেওয়া হয়েছিল। এই সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল গুমের এই অপরাধগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না ভেবে বরং ব্যাপকভিত্তিক ও সুপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত শুরু হওয়ার পর অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। ফলস্বরূপ, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ের ওপরও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের মধ্যেই এসব ঘটনার তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান যে, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। অপরাধীদের যেকোনো নতুন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।