ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় সাপের কামড়ের শিকার এক বৃদ্ধ স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটিয়েছেন তাঁর স্বামী। গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেব নগর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় বিষধর গোখরা সাপের দংশনের শিকার হন সত্তর বছর বয়সী ছকিনা বেগম। এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে গৃহকর্তা জাফর আহমদ জানান, তিনি সেসময় ঘরের বাইরে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী ছকিনা বেগম বাড়ির নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই একটি কুচকুচে কালো রঙের বিষধর সাপ ছকিনা বেগমকে কামড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি মুহূর্তেই লক্ষ্য করে তিনি আর সময়ক্ষেপণ না করে লাঠি দিয়ে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে এবং চিকিৎসকদের সঠিক সাপটি চিনতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে মৃত সাপটি একটি ব্যাগে ভরে নেন।
পরে স্ত্রীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছে ব্যাগ থেকে মৃত সাপটি বের করে দেখান। চিকিৎসকরা ব্যাগ খুলে অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির একটি গোখরা সাপ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে সাপের ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এই দূরদর্শিতার ফলে চিকিৎসকদের পক্ষে সাপের বিষের ধরন বোঝা সহজ হয় এবং রোগীর চিকিৎসা শুরু করা দ্রুততর হয়।
বর্তমানে আহত বৃদ্ধা ছকিনা বেগম পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, রোগীর ওপর বিষক্রিয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হবে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
