ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক মিহির কুমার দে’র বিপুল সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

কলাপাড়া প্রতিনিধ
সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৩:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 

অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের নামে কোটি টাকার বাড়ি কিনেছেন তিনি। এছাড়া আত্মীয়স্বজনের বিপুল অঙ্কের দেনা পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয় ও বিয়েতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে প্রায় ১৫ বছরের সরকারি চাকরিজীবনে তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে চালানো অনুসন্ধানে পটুয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান বাজার বণিকপট্টি এলাকায় মিহির কুমার দে’র স্ত্রী ও ছোট ভাই সমীর কুমার দে’র নামে একটি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত সাড়ে তিনতলা ওই বাড়িটি মিহিরের মামা চঞ্চলের কাছ থেকে কোটি টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নামে সম্পদ না রেখে স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের নামে বাড়িটি কেনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিহিরের ছোট ভাই সমীর কুমার দে’র সঙ্গে কথা হলে তিনি বাড়িটি তাদের নামে কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

মীরের ভাষ্য অনুযায়ী, বণিকপট্টি এলাকায় ওই বাড়ি ও তার নামে ক্রয় করেছেন দাদা মিহির। তার ভাই মিহির কুমার দে আরও বাড়ি ও জমি কেনার জন্য খোঁজ করছেন। এ তথ্য সামনে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে মিহির কুমার দে’র বৈধ আয় কত এবং সেই আয়ের সঙ্গে কোটি টাকার সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকু?

জানা গেছে, চাকরিজীবনের শুরুতে মিহির কুমার দে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির পদে যোগ দিয়ে সেখানে প্রায় সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসে বদলি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর আবারও তিনি কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছে বর্তমানে কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেককে কব্জা করে অনিয়ম দুর্নীতি করে বিপুল পরিমান কালোটাকার মালিক বনে গেছেন ভূমি কর্মচারী মিহির কুমার দে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মিহিরের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা পুরাপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মিহির কুমার দে’র মামা চঞ্চলের প্রায় অর্ধকোটি টাকা দেনা তিনি পরিশোধ করেছেন এমন দাবি করেছেন মিহিরের ছোট ভাই সমীর কুমার দে। এছাড়া তার মামিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছেন বলেও মিহিরের ছোট ভাই সমীর জানিয়েছেন। মামাতো বোনের বিয়েতেও দাদাকে দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার দেয়ার কথা দাবী করেছেন মিহিরের ছোট ভাই সমীর কুমার দে। এখন প্রশ্ন উঠছে নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি টাকার বাড়ি কেনা, মামার অর্ধকোটি টাকা দেনা পরিশোধ, মামির চিকিৎসা এবং মামাতো বোনের বিয়েতে অর্থ সহায়তা এসব অর্থের উৎস কী?

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিহির কুমার দে’র বাবা ছিলেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। পরিবারের এমন আর্থিক অবস্থান থেকে উঠে এসে সরকারি চাকরির মাত্র প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শেয়ার রয়েছে মিহির কুমার দে’র। ওই শেয়ার কিনতে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলেও সূত্রটির দাবি। একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়, সম্পদ ও বিনিয়োগের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিহির কুমার দে’র বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে বাড়ি কেনা, সম্পদের উৎস, আত্মীয়ের দেনা পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয়, বিয়েতে অর্থ সহায়তা এবং আরও জমি কেনার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আমি কোনো কথা বলবো না।” এরপরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি মিহির কুমার দে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।এই সাইটটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনকৃত