ঢাকাশুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমতলীতে অবাধে চলছে পলিথিনের ব্যবহার, পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Link Copied!

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ রক্ষায় ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচারণা চললেও বরগুনার আমতলী উপজেলায় অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার, মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংসের দোকান, ফার্মেসি, কাপড়ের দোকান, কসমেটিকস, স্টেশনারি এবং অন্যান্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন।

এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, জলাশয় ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খুচরা, মাঝারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আইনকে উপেক্ষা করে নিয়মিত পলিথিন ব্যবহার করছেন। বাজারে সহজলভ্য হওয়ায় এবং তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ বা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বহু বছর ধরে পাতলা পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে আসছে। একই সঙ্গে পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে আমতলীর অধিকাংশ বাজারে সেই নির্দেশনার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
পরিবেশবিদদের মতে, পলিথিন সহজে মাটির সঙ্গে মিশে যায় না। এটি শত শত বছর পর্যন্ত পরিবেশে থেকে যেতে পারে। ফলে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যায়, মাটির স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হয় এবং ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া ড্রেন ও খাল-নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নদী-খাল ও জলাশয়ে পলিথিন জমে জলজ প্রাণীর জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিন পোড়ালে ক্ষতিকর বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুদূষণ ঘটানোর পাশাপাশি মানুষের শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমতলীর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ও পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ ক্রেতাকেই পণ্য কেনার সঙ্গে পলিথিন ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারাও বিকল্প ব্যাগ সঙ্গে না আনায় পলিথিনের ব্যবহার আরও বেড়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।