বরগুনার আমতলী থানার শিশু সুরক্ষা হেল্পডেস্ককে আরও কার্যকর, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও উপকরণ প্রদান করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি), এনএসএস ও সিভিএ গ্রুপ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় আমতলী থানার হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রামের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভু দান বিশ্বাস।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মো. আবু জিহাদ, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলীর চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অতিদাস, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার প্রতিভা মণ্ডল, এনএসএস-এর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যাকলিন টুম্পা মণ্ডল ও রাধা রানী, সমাজকর্মী নাসরীন সুলতানা সিপু, যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তা রানী, সমাজসেবক শিরিন সুলতানা, যুব ফোরামের সদস্যবৃন্দ, আমতলী থানার কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, থানায় বিভিন্ন কারণে আসা শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু সুরক্ষা হেল্পডেস্ককে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করার মাধ্যমে শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এ উদ্যোগ।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় আমতলী থানার শিশু সুরক্ষা হেল্পডেস্কের জন্য ১০টি চেয়ার, ১টি ট্রাঙ্ক, ২টি লুডু বোর্ড, ৫টি বই, ১টি তোষক, ২টি বালিশ, ১টি বেডশিট, ১ সেট ব্লক খেলনা, ১টি ফার্স্ট এইড বক্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী, ১টি মশারি প্রদান করা হয়।
এছাড়াও থানায় আগত শিশুদের জরুরি খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য নগদ ২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এই অর্থ প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে আমতলী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
