খুলনার দৌলতপুর থানার কু্লিবাগান এলাকায় জলিল মুন্সি (৩৫) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি সকালে যশোর-খুলনা মহাসড়কের ওপর অবস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা এই আকস্মিক হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জলিল মুন্সি ওই এলাকারই বাসিন্দা দিলু মুন্সির সন্তান ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে জলিল মুন্সি পায়ে হেঁটে কু্লিবাগান আওয়ামী লীগ অফিসের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন জন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জলিলকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলি তার বুকের ডানপাশ এবং পিঠের বামপাশে বিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে জলিল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের এই খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, মোটরসাইকেল আরোহী তিন দুর্বৃত্ত সুকৌশলে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরেশোরে চলছে।
