ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর শহরে সম্প্রতি এক বিত্তশালী পরিবারের প্রবীণ ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ৬৩ বছর বয়সী বিনীত মিনোচা নিজ ফ্ল্যাটেই খুন হন এবং তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের বহু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশি তদন্তে একে একে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ঘটনাটি কোনো সাধারণ চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়নি। বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা।
পুলিশের ব্যাপক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। সিসিটিভির গতিবিধি ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে পরিবারের একজন সাবেক কর্মী এবং পরে তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে, যা পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, নিহত ব্যবসায়ীর নিজের পুত্রবধূর সরাসরি প্ররোচনা ও পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের পুত্রবধূ শালুকেও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং একপর্যায়ে তিনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পুত্রবধূ শালু জানান যে, তার শ্বশুর বাড়ির ভেতরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলেন যা তাকে চরম মানসিক চাপে রাখত। এছাড়া রাতে পার্টিতে যাওয়া, দেরিতে বাড়ি ফেরা কিংবা ছোটখাটো ব্যক্তিগত খরচের জন্য শ্বশুরের কাছে হাত পাতা এবং টাকা চাওয়ার বাধ্যবাধকতা তার মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। কিছুদিন আগে একটি নৈশ পার্টি থেকে দেরিতে ফেরাকে কেন্দ্র করে শ্বশুরের সঙ্গে তার মারাত্মক বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, যা তাদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। এই চরম পারিবারিক অশান্তি ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়েই তিনি শ্বশুরকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো চূড়ান্ত এবং ভয়ংকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শালু পরিবারের ওই সাবেক কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্ল্যাটের একটি নকল চাবি সহযোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং ঘটনার রাতে শ্বশুরকে একা পেয়ে প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকানোর জন্য খুনিরা পালিয়ে যাওয়ার পর পুত্রবধূ ও তার স্বামী নাটকীয়ভাবে বাড়িতে ফিরে লাশ দেখতে পাওয়ার ভান করেন। বর্তমানে এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ ও ভাড়া করা খুনিরা পুলিশের জালে বন্দি রয়েছে। পাশাপাশি, নিহতের ছেলের এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো পূর্বসচেতনতা বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম গভীরভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।
