ইতালির মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে অবস্থানকালে পরিবারের সদস্য ও তার ছোট কোলের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে একটি পার্কে সময় কাটানোর সময় হঠাৎ করেই একদল ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্যে জানা গেছে, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকার ওই পার্কে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনায় অভিনেত্রী চরম মানসিক আঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিজেদের ‘ভেনিস ছাত্রলীগ’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কিছু ব্যক্তি বাঁধনকে ঘিরে ধরে নানা ধরনের কটূক্তি করছেন। বিগত বছরগুলোতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে বাঁধনের সরব ও সক্রিয় উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ওই হামলাকারীরা। শুধু মৌখিক আক্রমণই নয়, বরং তার দিকে কোক ও পানি ছুড়ে মারা হয় এবং একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনটি পর্যন্ত জোরপূর্বক ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সময় অভিনেত্রীর সঙ্গে থাকা ছোট শিশুসন্তানটি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং পুরো ভিডিওজুড়ে তার কান্নার আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যায়। এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও হামলাকারীদের আচরণে কোনো নমনীয়তা দেখা যায়নি, যা উপস্থিত লোকজনকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে। নিজের ও পরিবারের ওপর এমন হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানান বাঁধন এবং স্থানীয় ভেনিস থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অভিযোগও দায়ের করেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে একজন খ্যাতনামা শিল্পীর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ শোবিজ অঙ্গনের বহু তারকা ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেছেন। পরীমনি তার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এ ধরনের ব্যক্তিদের কাছে একটি নিষ্পাপ শিশুর কান্নাও কোনো গুরুত্ব বহন করে না।
