কোনো ধরনের পণ্য ছাড়াই শুধুমাত্র ভুয়া কাগজপত্র এবং কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের রপ্তানি দেখানোর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট পাঁচটি চালান আটক করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে পরিচালিত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিশেষ তৎপরতার কারণে এই বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি সকলেরগোচরে আসে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে চিহ্নিত করার কাজ জোরদার করেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ১২১ টন পণ্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে সিস্টেমে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় চালানগুলোর গন্তব্য, পণ্যের বিবরণ এবং মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিক অসংগতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমাণের সঙ্গে ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এরপরই বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চালানগুলো আটকে দিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দাখিলকৃত বিল অব এক্সপোর্ট অনুযায়ী এই সমস্ত পণ্য ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামক একটি নির্দিষ্ট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে ওই ডিপোতে উপস্থিত হন এবং চালানগুলো প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মকর্তারা নির্ধারিত কোনো পণ্যই দেখাতে ব্যর্থ হন। এমনকি তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে জানান যে, রপ্তানির জন্য ঘোষণা দেওয়া এই চালানগুলোর কোনোটিই আদতে ওই ডিপোর সীমানায় প্রবেশই করেনি।
পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কার সহায়তায় কাস্টমসের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানির পণ্য প্রথমে ডিপোতে আসার কথা এবং পরবর্তীতে কাস্টমসের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে যাওয়ার পর তা চূড়ান্ত হয়। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় গভীর কোনো জালিয়াতি কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে যে এর সঙ্গে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কিংবা ডিপোর অভ্যন্তরীণ কোনো অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে কি না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই পুরো ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল থেকে শুরু করে সিস্টেমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রতিটি ধাপের পেছনে কার কার হাত রয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস আইন ও অন্যান্য আইনি বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
