ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদক ব্যবসায়ী-ছিনতাইকারীদের দীর্ঘদিন আটক রাখা যায় না: আইজিপি

Bangladesh
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আইনগত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি জানান, পুলিশের নিয়মিত অভিযানে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনি মারপ্যাঁচে তারা দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে এসব অপরাধী আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক বিশেষ সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বর্তমান জনশুমারির তুলনায় পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার সাধারণ নাগরিকের সুরক্ষার জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন, যা এককভাবে অপরাধ দমনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এককভাবে নির্ভর না করে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। সমাজের প্রতিটি নাগরিক সচেতন হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তরুণ প্রজন্মের ওপর মাদকের ভয়ংকর আগ্রাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ প্রধান বলেন, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মরনাস্ত্র মাদক বর্তমানে বিভিন্ন আকর্ষণীয় নাম বা এনার্জি ট্যাবলেটের মোড়কে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকাসক্তির করুণ পরিণতি তুলে ধরে তিনি জানান, একজন সন্তান যখন এই সর্বনাশা নেশায় আসক্ত হয়, তখন শুধু তার নিজের জীবনই বিপন্ন হয় না, বরং পুরো পরিবারকে এর চড়া মূল্য চুকাতে হয়। অতীতে দায়িত্ব পালনকালে এমন মর্মান্তিক ঘটনারও সাক্ষী হয়েছেন যেখানে মাদকের অর্থের জন্য সন্তান নিজের পিতাকে পর্যন্ত শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত সন্তানদের এই অন্ধকার জগৎ থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া।

পরিবেশ রক্ষা, নাগরিক সচেতনতা এবং ট্রাফিক নিয়মের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি জানান, রাজধানী ঢাকার দূষণ রোধে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া উন্নত বিশ্বের মতো শৈশব থেকেই শিশুদের সড়ক ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। পরিশেষে, পুলিশ ও সাধারণ জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।