আইন অনুযায়ী উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাপ্তাহিক হাট-বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে কারেন্ট জাল। বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সুযোগে রাহুথড়, রামদিয়া, ভাটিয়াপাড়া বাজারে রমরমা বেচা-কেনা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোনো দৃশ্যমান অভিযান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাহুথড় বাজার ঢুকতেই চান্দী ঘরের আগে প্রকাশ্যেই কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। রামদিয়া বাজার, পুলিশ ফাঁড়ির অভিমুখে সেলুনের পিছনে অনাধির নামের এক ব্যবসায়ী এবং মুরগী হাটার আরজু নামের এক ব্যক্তি টিনের ঘরে চায়না জাল ও কারেন্ট জাল মজুত করে প্রকাশ্যে জাল বিক্রি করছেন।
ভাটিয়াপাড়া বাজার রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় রমরমা বেচা-কেনা চলছে নিষিদ্ধ জালের।
ক্রেতারা প্রকাশ্যেই জাল কিনছেন। অথচ এসব বাজারে মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের কোনো নজরদারি চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, হাটে অবাধে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হলেও মৎস্য বিভাগ শুধু দূরবর্তী খাল-বিলে গিয়ে সাধারণ জেলেদের কাছ থেকে ২-১টি জাল জব্দ বা পুড়িয়ে ছবি তুলেই দায়িত্ব শেষ করছে। এতে প্রকৃত মজুতদার ও বড় ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, “বাজারে শত শত পিস নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোনো অভিযান হয় না। মাঝে মাঝে বিলে গিয়ে কয়েকটি জাল পুড়িয়ে ছবি তোলা হয়। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কিছুই হয় না।”
রাহুথড় বাজারের ইজারাদার দিলিপ বলেন, “এই বিষয়ে আমি অবগত নয়। কারেন্ট জাল বিক্রি হয় এমন অভিযোগ এর আগেও পেয়েছি। আজকে আপনার কাছ থেকেও জানলাম। এখনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসলাম হোসেন শেখ বলেন, “কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল দেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। এসব জালে মাছের ডিম, রেণুপোনা, ছোট মাছ, কাঁকড়া নির্বিচারে ধরা পড়ে।
ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মাঝে মধ্যে বাজার মনিটরিং করা হয়। আজকে কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে তা মাত্র জানলাম। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারেন্ট জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা জরুরি।

