নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া হরিদাস গৌর গোবিন্দ শ্যামসুন্দর স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি স্কুলে খরচ কম ভেবে সন্তানদের ভর্তি করালেও উল্টো চিত্র দেখে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা বলেন, “সরকারি স্কুলে খরচ কম হবে মনে করে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ঘটনা ঘটছে তার উল্টো। তিন মাস পর ৭৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এর সাথে আরও নানা অজুহাতে বিভিন্নভাবে খরচ বৃদ্ধি করে নেওয়া হয়। কিছুদিন পর বিভিন্ন রকমের ‘বাবদ’ টাকা চাওয়া হয়। এ নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ও অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।”
শিক্ষার্থীদের মাসে সরকারি বেতন ১২ টাকা হলেও অতিরিক্ত খন্ডকালীন শিক্ষক বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি আরো ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেও আছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষকদের স্ত্রী, মেয়ে, ছেলের বউ সহ নানা রকম আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোন পরীক্ষা ছাড়া। প্রতি মাসে টিফিন বাবদ ১০০ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিদিন টিফিন দেওয়া হয়না। কম্পিউটার ল্যাব ফি বাবদ ১৫০ টাকা নেওয়া হলেও কোন কম্পিউটার ক্লাস নেওয়া হয় না। ম্যাগাজিন ফি, উন্নয়ন ফিসহ আরো বিভিন্ন নামে ফি নেওয়া হয় বছরের বিভিন্ন সময়ে
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, “খন্ডকালীন শিক্ষকের বেতনের টাকার জন্যই অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। আমাদের সরকারি শিক্ষক সংকটের কারণে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অধিক। যার ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।”
সরকারি প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীন শিক্ষকের বেতন বাবদ এভাবে ফি আদায় বৈধ কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। দ্রুত এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকরা।
