ফরিদপুরের মধুখালীতে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসা মো. সামাদ খান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (০৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৮৫ পিস ইয়াবা ও সাংবাদিক পরিচয়ের একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সামাদ খান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশে অংশ নিতেন তিনি। তবে শনিবার রাতের এই অভিযানের পর তার দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আসল মুখোশ উন্মোচিত হলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সামাদের জীবন ছিল দ্বিমুখী। বহু বছর আগে মাদক মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর সমাজে নিজের অপরাধ ঢাকতে ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তিনি সাংবাদিকতার পথ বেছে নেন। একটি পত্রিকার প্রতিনিধি পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি, যা তিনি মাদক পাচার ও অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালেও র্যাবের এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেন্সিডিল, বিদেশি মদ ও যৌন উত্তেজক বড়িসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুলিশের পোশাকের বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই বছর একটি নারী নির্যাতনের মামলাতেও তার নাম জড়ায়।
সাংবাদিকতার মতো একটি সম্মানজনক পেশাকে অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। মধুখালীর এক স্থানীয় সাংবাদিক আক্ষেপ করে বলেন,
একজন প্রকৃত সংবাদকর্মী সমাজের অসংগতি ও মানুষের কথা তুলে ধরেন। আর কেউ যদি সেই পবিত্র পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে, তবে পুরো পেশাটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা এমন ভুয়া সাংবাদিকদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
এলাকার প্রবীণদের মতে, অপরাধীরা প্রায়ই সমাজে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সম্মানজনক পরিচয়ের আড়ালে আশ্রয় নেয়, সামাদের ক্ষেত্রেও হুবহু তাই ঘটেছে।
শনিবার রাতে র্যাবের গাড়ি যখন সামাদকে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। মধুখালীর মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই আলোচনা—আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মুখোশ পরে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই।
গ্রেপ্তারকৃত সামাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
