ইতালির মর্যাদাপূর্ণ লুক্কা চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য এক নতুন গৌরব বয়ে এনেছে ‘মাস্টার’। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামী দামি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই সম্মানজনক স্বীকৃতি ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশি এই ছবিটি। ইতালির তাসকানি থেকে আসা এই সুসংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের সিনেমার এই বড় অর্জনে দারুণ উচ্ছ্বসিত পুরো টিম এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতরা।
পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত জানান যে এই অর্জন তাদের সিনেমার সার্বজনীনতা এবং বিশ্বব্যাপী এর প্রাসঙ্গিকতারই আরেকটি বড় প্রমাণ। তিনি এই বিশাল সাফল্যের পেছনে অবদান রাখার জন্য উৎসবের বিচারকমণ্ডলী এবং ছবির সঙ্গে জড়িত পুরো কলাকুশলীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সুদূর ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্রের এমন স্বীকৃতি দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অভাবনীয় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবিটির জুরি বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন অস্কারজয়ী কস্টিউম ডিজাইনার ফ্রাঙ্কা স্কুয়ার্সিয়াপিনো, খ্যাতনামা লিথুয়ানিয়ান পরিচালক শারুনাস বার্তাস এবং ইতালীয় অভিনেতা-পরিচালক মিকেলে রিওনদিনোর মতো বিশ্বসেরা শিল্পীরা। সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করে জুরি বোর্ড তাদের অফিসিয়াল বক্তব্যে উল্লেখ করে যে, গল্পটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ-সরল মনে হলেও বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার গণতন্ত্রের নানা সংকট এতে অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। একজন আদর্শবান শিক্ষকের জীবনের কাহিনীর মধ্য দিয়ে পরিচালক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিলতায় সততা ও নৈতিকতা মার খায়।
এমন আন্তর্জাতিক অর্জনে তীব্র উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছবিটির অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে এই পুরস্কার পুরো টিমের জন্য ভীষণ আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত এবং ‘মাস্টার’ কেবল একটি সিনেমা নয় বরং এটি বর্তমান সমাজ ও মানুষের নানা সংকটের প্রতিচ্ছবি। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, এই চলচ্চিত্রটিতে নাসির উদ্দিন খান ও আজমেরী হক বাঁধন ছাড়াও জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজসহ দেশের একদল খ্যাতিমান শিল্পী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
