সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিকালের একপর্যায়ে নজিরবিহীন হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তথ্য গোপনের দায়ে আদালত কর্তৃক এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে নিয়মিত মামলার কার্যক্রম চলার সময় এই বাগবিতণ্ডার ঘটনাটি ঘটে। আদালতের এই আদেশের বৈধতা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিচারপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
ঘটনার একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন সরাসরি প্রধান বিচারপতির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এজলাসে উচ্চস্বরে মন্তব্য করেন যে, বর্তমান প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সামগ্রিকভাবে আইনজীবীদের পেশাগত আয় ও উপার্জন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও ব্যক্তিগত মন্তব্যে এজলাসের পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আইনজীবীর এমন মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীও তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও কথা কাটাকাটি চলতে থাকে, যা আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। বিচারপতির আসন এবং আইনজীবীর মধ্যে চলা এই তীব্র তর্কের ফলে বিচারক ও আইনজীবীদের পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে সবার সামনে চলে আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিরা তাৎক্ষণিকভাবে এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান যে তার একটি মন্তব্যের জেরে বিচারকরা এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
