মার্কিন রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন আগামী ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামার সম্ভাবনাটি তার বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই বিষয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত বা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি বলেও স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।
‘দ্য ক্যাটস রাউন্ডটেবল’ নামের একটি পরিচিত রেডিও ও পডকাস্ট অনুষ্ঠানে আলোচনার সময় উপস্থাপক জন ক্যাটসিমাটিডিস সরাসরি তাকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না তা জানতে চান। জবাবে হান্টার রসিকতার সুরে বা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন যে উপস্থাপকের সমর্থন পেলে তাকে এই লড়াইয়ে নামতেও হতে পারে। তবে একই অনুষ্ঠানে একটু ঘুরিয়ে করা অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে বিষয়টিতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।
সাক্ষাৎকারটিতে ডেমোক্র্যাট দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্ভাব্য মুখ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন হান্টার বাইডেন। তিনি মনে করেন যে তাদের দলটিতে আগামী দিনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো বেশ কয়েকজন যোগ্য ও সম্ভাবনাময় নেতা রয়েছেন। এ সময় তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এবং ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করার কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও বেশ জোরালোভাবেই আলোচিত হচ্ছে। দলটির সম্ভাব্য তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের পাশাপাশি জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জরিপেও এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে হান্টার বাইডেন ব্যক্তিগত জীবনের অতীত সংগ্রাম এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি নিজের অতীতে মাদকাসক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান যে বর্তমানে তার প্রধান মনোযোগ ও উদ্বেগ হলো আসক্তির সমস্যায় ভোগা কোটি কোটি সাধারণ আমেরিকানকে নিয়ে। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব যার হাতেই যাক না কেন, তাকে অবশ্যই মার্কিন সংবিধান এবং আইনের শাসনের প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
