ঢাকার সাভার উপজেলায় একটি কওমি মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই শিক্ষার্থীর ওপর চালানো নির্মম এই নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাজুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাত বছরের ওই শিশুটিকে গত ছয় মাস ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মাদরাসার ভেতরেই শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেনসহ বেশ কয়েকজন এই নারকীয় কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবার সাহস সঞ্চয় করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করে। এই মামলায় মাদরাসার কতিপয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ এবং অপরাধে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে নজর কাড়ে এবং পুলিশ প্রশাসন আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে।
অভিযুক্তদের ধরতে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশানের নেতৃত্বে পুলিশি দল সম্প্রতি ভোলা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। সফল অভিযানে শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
