সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব অশুভ শক্তির বিনাশ ও সত্যের জয়ের প্রতীক। এ উপলক্ষে আজ ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার), ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথি, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩ তম জন্মাষ্টমী বা জন্ম তিথি পালিত হচ্ছে।
এ উপলক্ষে আমতলী শ্রী শ্রী মদনমোহন জিওর মন্দিরে দুইদিন ব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে আজ সকাল দশটায় আমতলী শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে সনাতন ধর্ম সংরক্ষণ সমিতি এবং সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরিগুরুচাঁদ মন্দির এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে পুনরায় শ্রী শ্রী মদন মোহন মন্দিরে এসে সমাপ্তি ঘটে। এ সময় শত শত ভক্ত-অনুরাগী শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দিনই আবির্ভাব হন এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর আবির্ভাব তিথি উদযাপন করা হয়।
শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, আগামী দুই দিন বেবি শ্রী শ্রী মদন মোহন জিওর মন্দিরে ভক্তদের অংশগ্রহণে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
শোভাযাত্রা উদযাপন কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট শ্রী হরিহর চন্দ্র দাস, জগদীশ চন্দ্র বসু, বাবু বিনয় কুমার দাস, ব্যবসায়ী অশোক কর্মকার, ব্যবসায়ী মৃদুল কুণ্ড, সুকুমার হালদার, বিকাশ, হরি পাল, সহ স্থানীয় সুধীজন।
এ সময়ে আমতলী অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও শোভাযাত্রা উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শোভাযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
