ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ, বেড়েছে বৈদেশিক ঋণ

Malaysia
অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়ে আগের তিন মাসের তুলনায় নিট বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বাইশ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এই বিনিয়োগ সামান্য বেশি ছিল। মূলত নতুন মূলধনী বিনিয়োগ এবং পুনর্বিনিয়োগের পাশাপাশি আন্তঃকোম্পানি ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রिक বিনিয়োগ পরিস্থিতি মন্থর হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন উদ্যোগে হাত না দিয়ে বরং বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বেশি ব্যস্ত রয়েছেন।

বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার পেছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের শিল্পকারখানাগুলো বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকঋণের চড়া সুদহার, যা সামগ্রিক ব্যবসার খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে, বাজারে পণ্যের চাহিদা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগের পথকে সংকুচিত করছে। এছাড়া অবকাঠামোগত নানা দুর্বলতা এবং সেবামূলক খাতের অব্যবস্থাপনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একদিকে বিনিয়োগের এই খরা চললেও অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত জুনের শেষ নাগাদ সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর আগের প্রান্তিকের তুলনায় তিন মাসের ব্যবধানে দেশের বিদেশি ঋণ চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় এই খাতের ঋণস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, উচ্চ সুদহার ও বৈশ্বিক চাপের কারণে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসার পরিবেশের গভীর সংস্কার সাধন করতে হবে। হঠাৎ করে নীতি পরিবর্তন না করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি খাতের অপচয় রোধ ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা না গেলে বৈদেশিক ঋণের এই ক্রমবর্ধমান চাপ দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।