রাজনীতি ডেস্ক: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচারী ও গোপন শক্তিগুলো এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সবসময় সতর্ক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিটি ঘটনার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ সংসদীয় বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে দলের প্রায় দুই শতাধিক আইনপ্রণেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং দলের ভেতরে ও বাইরে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখে ইতিবাচক এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো পরিবর্তনশীল রাজনীতি চর্চা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে তাঁর দল নিপীড়ন বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে বিভিন্ন বৈরী পরিবেশ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার বা মব জাস্টিসের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যেকোনো মূলils দখলদারত্ব এবং চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম বন্ধ করতে হবে এবং নারী নির্যাতন রোধে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা বিধানের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখন বিএনপির ওপর আস্থা রাখছেন, তাই তাদের ধর্মীয় উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এখনই তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ভুলে মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয় মুখগুলোকে প্রার্থী করার তাগিদ দেন এবং স্থানীয় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করতে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের সব অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এক রকম নয়, তাই গোপালগঞ্জ কিংবা বগুড়ার মতো এলাকার ভিন্নতা বিবেচনা করেই স্থানীয় কর্মসূচি ঠিক করতে হবে। এদিকে বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদকের বিস্তার, আসামিদের দ্রুত জামিন পাওয়া এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের মতো নানা জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
