খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা ও গুলিতে মো. ইকবাল শেখ নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রোববার সকালে হঠাৎ বাজার এলাকার ইসলামপাড়া প্রথম গলির সামনে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ইকবাল শেখ স্থানীয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি ওই এলাকার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় ইকবালের মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবির শেখের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু দাম্পত্য কলহের জেরে তিন মাস আগে মেয়েকে সেই সংসার থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন ইকবাল শেখ। এই বিচ্ছেদের ঘটনাটি মেনে নিতে পারেনি সাবেক স্বামী আবির শেখ, যার ফলে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও শত্রুতা তৈরি হয়। এর আগেও ইকবালের ওপর একবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সকালে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে সামান্য পথ এগোতেই ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ইকবালের ওপর চড়াও হয়। অভিযুক্ত আবির ও শাওনের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচ জনের একটি দল এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুকৌশলে প্রথমে তার বাম পায়ের হাঁটুর ওপরে এক রাউন্ড গুলি করে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, মূল অভিযুক্ত আবির এলাকায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং সে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা মো. শহীদুল ইসলাম এই নৃশংস হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং সৌভাগ্যবশত তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
