ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সারা দেশে ৪৫৩ কিশোর গ্যাং, দিনদিন বিস্তার বাড়ছে

Malaysia
অক্টোবর ২, ২০২৬ ২:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল এবং ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এই তরুণ বয়সীরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নামে বেনামে পেজ বা গ্রুপ খুলে তারা নিজেদের অপরাধের নানা কীর্তি প্রচার করছে, যা দেখে অন্য কিশোররাও অপরাধে প্ররোচিত হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং সমাজে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মোট ৪৫৩টি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব রয়েছে।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই গ্যাং সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালে রাজধানীর উত্তরায় ‘টেন গ্যাং’ নামক একটি গ্রুপের মাধ্যমে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বখাটে তরুণদের আড্ডা এবং গ্রুপভিত্তিক বিরোধের মধ্য দিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আজ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বর্তমানে শুধু ঢাকা মহানগরীই নয়, বরং বিভাগীয় শহর ছাড়িয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এসব কিশোর চক্র বিস্তার লাভ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এছাড়া ঢাকার আটটি বিভাগের বিভিন্ন থানায় বর্তমানে ১৬১টি এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ ১১ জেলায় প্রায় ১৩০টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন এলাকার মাঠপর্যায়ে এসব গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অপরাধ বিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শিশুদের জন্য খেলাধুলার মাঠ ও পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এই গ্যাং কালচার প্রসারের মূল কারণ। বর্তমান সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় ও নজরদারি না দেওয়ার কারণে কিশোরদের মনে একধরনের মানসিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সেই শূন্যতা থেকেই তারা নিজেদের শক্তির জানান দিতে এবং বন্ধুত্বের তথাকথিত বলয় তৈরি করতে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য এই কিশোরদের ব্যবহার করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাও ক্ষমতার মোহে এই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদর দপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের অপরাধের ধরন, অস্ত্র ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, পারিবারিক অনুশাসন ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জোরালো ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মদদ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।