রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার আলোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি গভীর রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের তদন্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুরের ঘটনায় এই নেতার সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত নূর আলম একসময় শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অনেক আগেই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতা ইলিয়াস ও নাডা আওলাদকে ভাড়া করেছিলেন তিনি। এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ষোলজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
এরই মধ্যে দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের নথিপত্র, প্রিন্টার এবং জেনারেটরসহ মোট ছেচল্লিশ ধরনের মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া লুটপাট ও ভাঙচুরের কাজে ব্যবহৃত দুটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে ভবনের টিন এবং আরেকজনের কাছ থেকে স্টিলের দরজা উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর এক নম্বর এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ লুট করে। পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে পুরো পাকা ও আধা পাকা স্থাপনাসমূহ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই তাণ্ডব চালানো হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এক কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এবং তাঁর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
