সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে ন্যাটো জোটের ওপর কৌশলগত চাপ বজায় রাখতে অভিনব কৌশল গ্রহণ করতে পারে রাশিয়া। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের গোপন ও বহুমুখী তৎপরতা চালাতে পারে মস্কো। এর মধ্যে মূলত নাশকতা, সাইবার আক্রমণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি আধুনিক যুগে এই ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ কৌশল অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করা সম্ভব হয়। ইউরোপীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অদৃশ্য হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে এবং এর পরিধি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে সাইবার হামলার ঝুঁকি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।
বিশ্লেষকদের এই সতর্কবার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন এবং সাইবার প্রতিরক্ষায় যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দিন দিন জটিল হয়ে ওঠা এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলো কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
