সরকারি তহবিলের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে একটি সিঙ্গেল পয়সাও যেন অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করছেন সরকারপ্রধান। নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও এই কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি তিনি কড়াকড়িভাবে মেনে চলছেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক জীবনযাপনের নানা ব্যয় সংকোচনের চিত্র তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ ও সাদামাটা জীবনযাপন পছন্দ করেন। তার পোশাক-পরিচ্ছদেও এই সরলতার ছাপ স্পষ্ট রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া সরকারি কার্যক্রমেও বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে জানিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী এখন বিমানবন্দর যাতায়াত সীমিত করেছেন, নিজের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ও সফরসঙ্গী বা লোকবহর কমিয়ে এনেছেন এবং দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে নিজ অফিসেই খাবারের সুব্যবস্থা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি অভিযোগ করেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় তহবিলের চরম অপচয় হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, অতীতের সরকার আমলে শুধু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাবারের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, যেখানে একেকটি বিলে বড় অংকের টাকার গরমিল দেখা গেছে। জনগণের কষ্টের করের টাকায় চালিত এই অর্থ অপচয়ের কারণে বর্তমান প্রশাসনকে এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারকে টেনে নিতে হচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি তথ্য দিয়ে বলেন যে বিগত সরকারের আমলে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের একটি বড় অংশ বর্তমান প্রশাসনকে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়েই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ শোধ করা হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের এই অর্থ উদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি জানান, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর কিংবা সরকারি কাজের ক্ষেত্রে ব্যয়ের হিসাব কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এখন থেকে শুধু মৌখিক হিসাব নয়, বরং খরচের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও প্রয়োজনীয় ভাউচার বা কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চিফ হুইপ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগগুলো কোনো লোকদেখানো বিষয় নয়, বরং এটি তার প্রকৃত মানসিকতা ও বাস্তব চর্চার অংশ। দেশের অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের এই ক্রান্তিলিকালে রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতিটি পাইপাই হিসাব নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
