ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, গুজব-অপতথ্যে ১০ বছরের জেল

Bangladesh
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড কিংবা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ইতোমধ্যে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে সাইবার অপরাধ দমনে শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হবে। বর্তমান আইনে গুজব বা অপতথ্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তিমূলক ধারা না থাকায়, নতুন এই সংশোধনীতে অপরাধের পরিধি ও শাস্তি উভয়ই বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানি, হেয়প্রতিপন্নকরণ এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে অপরাধের আওতায় এনে এর সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান স্পষ্ট করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে হামলা, হ্যাকিং, সাইবার সন্ত্রাস, যৌন নিপীড়ন এবং গুজব ও অপপ্রচারসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে। তুলনামূলক কম গুরুতর অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে, যা প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও বিচার করা যাবে। পাশাপাশি, কোনো কোম্পানি এই আইনের অধীনে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাদের লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল কিংবা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে। অন্যদিকে, কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষেত্রে পূর্বের তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতির বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অবমুক্তির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করার অংশ হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রিপরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বিগত আইনের অপব্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, খসড়ায় থাকা ‘মানহানি’ বা ‘হেয়প্রতিপন্ন’ শব্দের অপব্যবহারের মাধ্যমে যেন সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা না হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, পূর্বের আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো বিধান এতে রাখা হবে না।

সাইবার স্পেসের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা যাতে অনলাইনে বুলিং বা চরিত্রহননের শিকার না হয়, সেজন্যই কঠোর শাস্তির এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। তবে অংশীজনদের সব ধরনের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে আরও কয়েকটি ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে আরও মতামত নিয়ে এই খসড়া আইনটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।