ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

র‍্যাবের মতো আরেকটি বাহিনী গঠন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদল

Bangladesh
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের শেষ দিনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি ও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, র‍্যাবের জনবল, লজিস্টিক সহায়তা এবং ক্ষমতা অপরিবর্তিত রেখে কেবল নাম বদল করে নতুন এই বাহিনী গঠন করা হলে তা সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই ইতিবাচকভাবে মেনে নেবে না। তিনি বিলটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পাশাপাশি তা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান এবং এটি অন্য সাধারণ কোনো সাধারণ বিলের মতো নয় বলে মন্তব্য করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বিগত বছরগুলোতে র‍্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, র‍্যাব গঠনের পর থেকে দেশের সার্বিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। অতীতে এই বাহিনীর হাতে বহু মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ভুক্তভোগী হওয়ার পাশাপাশি সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের পরিবারের ওপর চালানো নির্যাতনের হৃদয়বিদারক ঘটনাও সংসদে স্মরণ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, অতীতে এই বাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে জাতীয়তাবাদী শক্তি সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, যা থেকে জাতির কোনো অংশই বাদ যায়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে র‍্যাব বিলুপ্তির বহুমুখী দাবি দেশ ও বিদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো উত্থাপন করলেও, কখনোই একই ধরনের আরেকটি নতুন বাহিনী গঠনের কোনো গণদাবি ছিল না। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবিত বিলে দেখা যাচ্ছে যে, আগের বাহিনীর কাঠামো, অবকাঠামো ও ক্ষমতা পুরোপুরি বহাল রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করে এসআরবি দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মানুষের মনে গভীর ভীতি ও আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।

সংসদে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিলটি নিয়ে আলোচনার সমসাময়িক সময়ে পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্রীকে বাসা থেকে কোনো ধরনের সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, যা থেকে নতুন বাহিনীর আচরণ সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা স্পষ্ট হয়। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও এই বিল নিয়ে আপত্তি ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দাবি পূরণ না করে এ ধরনের বাহিনী বহাল রাখলে দেশ আগের কলঙ্কিত পরিস্থিতিতেই আটকে থাকবে। তাই তিনি মৌলিক জায়গাগুলো অপরিবর্তিত রেখে এই বিল পাস না করে, বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনার আহ্বান জানান।