ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে, তার অনুপস্থিতিতে দেশের বাইরে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, দলের বর্তমান জ্যেষ্ঠ নেতার হিসেবে শেখ সেলিমই এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং যোগ্য ব্যক্তি।
ওই সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবোন শেখ রেহানা প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, শেখ রেহানা কখনোই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। দ্য ওয়ালের নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের দেশে ফেরার সম্ভাবনা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
দেশে ফেরার তীব্র আগ্রহ থাকলেও নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে প্রাণনাশের শিকার হতে হতে পারে। এছাড়া, যারা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই কারণে কাউকে কোনো ধরনের বিপদে ফেলতে চান না বলে জানান সাবেক এই নেত্রী।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভারতের ভূমিকা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে দিল্লির অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো ধরনের সামরিক জোটের ওপর নির্ভর না করে পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই বেশি জরুরি। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সুদৃঢ় করা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
