দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনে জ্বালানি সংকট, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প বাস্তবায়নে তাদের দপ্তরেও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, অতীতের ভুল নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতের জটিলতা তৈরি হলেও বর্তমান প্রশাসন তা উত্তরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর জন্য ইতোমধ্যে ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট খুব শীঘ্রই পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান ছাড়াই অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সমুদ্রে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বিগত সময়ে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর অফশোর বিডিং রাউন্ড উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং দেশীয় কূপ খননের জোরালো কার্যক্রম চলছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও উপদেষ্টা নিয়োগের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেলের পরিশোধন ক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ‘সিংগেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্প চালুর জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবসায়ীদের জন্য ১ শতাংশ শুল্ক সুবিধা ও আগামী ছয় মাসের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতি ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপে আগামী বছর নাগাদ জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ পুরোপুরি সংকটমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
