সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে একীভূত হওয়া দেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শৃঙ্খলায় ফেরাতে এবং গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা দূর করতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম দিনেই প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক তাদের জমানো আমানত থেকে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ হাতে পেয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে এবং ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, একীভূত হওয়া এই পাঁচটি ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোর দেশব্যাপী মোট ৭১৬টি শাখা রয়েছে, যেখান থেকে গ্রাহকসেবা প্রদান করা হচ্ছে। ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নিজেদের আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় পঁচাত্তর হাজার গ্রাহক আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন। এসব আবেদনপত্রে গ্রাহকদের মোট দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার নয়শ পঁচিশ কোটি টাকা, যা পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটিকে নির্বিঘ্ন ও বেগবান করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুকূলে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল সরবরাহ করা হয়। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শাখাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সেই অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বণ্টন করা হয়। মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন শাখায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে যে, সকাল থেকেই গ্রাহকরা ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের টাকা উত্তোলন করছেন। কোনো ধরনের বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্থ বুঝে পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ তুলতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় থাকা গ্রাহকরা টাকা হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মতিঝিল এলাকার একটি শাখায় টাকা তুলতে আসা এক গ্রাহক জানান, দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে টাকা হাতে পাওয়ায় তিনি অনেকটাই স্বস্তি বোধ করছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান জানিয়েছেন, টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে আসা কোনো গ্রাহককেই খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত নিয়মে সবার আমানত ফেরত দেওয়া হবে। গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে এই পরিশোধ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে চলমান থাকবে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
