ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

Bangladesh
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সন্তান বা নিকটাত্মীয়কে স্থাবর সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় তা নিজে ভোগ করার আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট বা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ওই অধিবেশনে এই আইন পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি কর্তৃক তাদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি নিজের ভোগদখলে রাখতে পারবেন। এমনকি দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতার মৃত্যু ঘটে, তবুও সম্পত্তির ভোগাধিকার দাতার নিকটই বহাল থাকবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তীতে তা গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে। এই আইনটি দেশের সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলে সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী সংসদে বিলটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জানান যে, এতদিন প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত এই জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান প্রক্রিয়াটি সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী হেবা কিংবা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়মের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।

এদিকে বিলটি পাস হওয়ার আগে সংসদে এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি এই সংশোধনীকে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের পূর্বের ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এটি পাস না করার জোরালো দাবি জানান। তার মতে, এর ফলে ইসলামী উত্তরাধিকার বা মিরাসি আইন লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি দলের সমর্থন ও কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি সংসদে পাস হয় এবং বাবা-মায়ের সুরক্ষায় একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল।