সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও আপত্তি প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই বিলটিতে এমন কিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে যা পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই ঈমান ও আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত এই স্পর্শকাতর আইনটি বর্তমান সংসদ অধিবেশনে কোনোভাবেই পাস না করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। সংসদীয় আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি বণ্টনের সুনির্দিষ্ট বিধানকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে তা মুসলিম সমাজে গভীর বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা আরও ব্যাখ্যা করেন যে, উত্তরাধিকার এবং দান বা হেবা করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার বিভিন্ন আয়াতে সম্পত্তি বণ্টনের মূলনীতি এবং এর লঙ্ঘন করার পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উইল বা হেবা দলিলের মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করার সময় তাকে অবিলম্বে মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে, যা প্রস্তাবিত আইনে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন। মৃত্যুর পর সম্পত্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি সাধারণত হেবার পরিবর্তে ওসিয়তের আওতাভুক্ত হয়ে থাকে, যেখানে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী কঠোর নিয়ম ও সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শরিয়াহর এসব মৌলিক বিষয় উপেক্ষিত হওয়ায় প্রকৃত হকদারদের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। যদিও তিনি পিতা-মাতার অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করেছেন, তবুও সামগ্রিক আইনটি ইসলামি বিধানের পরিপন্থী হওয়ায় তা সংশোধনের ওপর জোর দেন। তিনি নিজেকে শরিয়াহ আইন বিশেষজ্ঞ বা মুফতি হিসেবে দাবি না করে কোরআনের একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আরও সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরিস্থিতি এড়াতে এবং সম্ভাব্য সামাজিক বিপর্যয় রোধ করতে বিতর্কিত এই বিলটি অবিলম্বে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, আইনটি সরাসরি পাস না করে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামি স্কলারদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো উচিত। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যদি এই পথ অনুসরণ করে এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণ করে, তবে দেশ সম্ভাব্য শরিয়াহবিরোধী আইন প্রণয়নের হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
