৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী। নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম শেখ মিশা খাতুন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিজের ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার সেই কাঙ্ক্ষিত যাত্রা চিরতরে থেমে যায়, যা তার পরিবার ও পরিচিতজনদের জন্য এক গভীর শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, পড়ালেখা শেষ করে তিনি এর আগে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে (বিএসটিআই) খুলনার পরীক্ষক (কেমিক্যাল) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের উচ্চতর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ৫০তম বিসিএসের ভাইভা দিতে গোপালগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার দিকে আসার সময় তিনি অপ্রত্যাশিত এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। গোপালগঞ্জে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ওই দুর্ঘটনায় তিনিসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারান, যা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করেছে।
এদিকে উদীয়মান এই তরুণী কর্মকর্তার আকস্মিক ও untimely প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় তার এই চলে যাওয়াকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অপূরণীয় এক ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের স্বাক্ষর সংবলিত ওই বার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। সহপাঠী ও শিক্ষকদের স্মৃতিতে শেখ মিশা খাতুন একজন পরিশ্রমী, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনমহল ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসলেও দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে প্রাণহানির ঘটনা কমছে না। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু আবারও আমাদের দেশের সড়ক নিরাপত্তার বেহাল দশাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সামান্য কিছু ভুলের কারণে বা বেপরোয়া গতির ফলে প্রতিদিন কত তাজা প্রাণ এভাবেই অঝোরে ঝরে যাচ্ছে, যার সঠিক কোনো প্রতিকার মিলছে না। শেখ মিশা খাতুনের মতো সম্ভাবনাময় তরুণদের এমন করুণ পরিণতি গোটা জাতিকে ব্যথিত করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র করে তোলে।
