সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলা এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সম্প্রতি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে গঠিত একটি বিশেষ তদন্ত দল সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধীদের সঠিক ভূমিকা চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানার নেতৃত্বে ৯ সদস্যবিশিষ্ট দলটির প্রতিনিধিদল রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় যায়। সেখানে তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার একটি ধারাবাহিক বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ সংবাদমাধ্যমকে এই তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বের হওয়ার পরপরই সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর এই আকস্মিক হামলা চালানো হয় এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সৌভাগ্যবশত এই হামলায় সংসদ সদস্য অক্ষত থাকলেও তাঁর বহনকারী গাড়িটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পরদিন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এই মামলার জেরে পুলিশ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পেলেও প্রধান আসামি এখনো কারাগারে আটক রয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আট দিন পর গত ২৪ আগস্ট জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থার সুপারিশসহ দলীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
