আশাশুনিতে পটগান, নাটক ও পাপেট শোর মাধ্যমে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ যত্ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবেলায় অভিযোজন বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগকালীন ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের সহায়তায় বাস্তবায়িত “Inclusive Community Resilience to Disaster and Climate Vulnerabilities (ICRDCV-III)” প্রকল্প। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালীন সময়ে বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়োবৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১০ জুন থেকে আশাশুনি সদর, শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে পটগান, নাটক ও পাপেট শো আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুটি করে পরিবেশনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মাঝে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ অবস্থান, বজ্রপাত ও তাপপ্রবাহকালীন করণীয়, বৃক্ষরোপণ, সৌরশক্তির ব্যবহার, জৈব সার ও বায়োগ্যাস প্রযুক্তি, মাচা ও ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষসহ জলবায়ু সহনশীল বিভিন্ন প্রযুক্তি ও অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে ১৬ জুন প্রতাপনগর ইউনিয়নের পূর্ব নাকনা ও গোকুলনগর গ্রামে একই ধরনের দুটি পটগান, নাটক, পাপেট শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় ও অংশগ্রহণমূলক করতে প্রতিটি পরিবেশনার শেষে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, এবং বিজয়ী তিনজনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রত্যেক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন নারী, পুরুষ, যুবক-যুবতী ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিতভাবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠন সুন্দরবন থিয়েটার এই গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (হিউম্যানিটারিয়ান) এসএম. মনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যন্ত মোট ৯টি পরিবেশনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৭ জুন দুটি পরিবেশনার মাধ্যমে এই গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
