জাতীয় ডেস্ক: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সারের ডিলার বা প্রস্তাবিত পরিবেশক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিলার হিসেবে যাঁদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশেরই কোনো ব্যবসায়িক পূর্বভিজ্ঞতা নেই এবং তাঁরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের স্বজন। গত কিছুদিন আগে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন মহল ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়ার মোট নয়টি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য সর্বমোট ১৮১ জন ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পর প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় এবং মাঠপর্যায়ে গুদামঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো পরিদর্শন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, প্রাথমিক তদন্তে সবকিছু ঠিক থাকার পরও চূড়ান্ত তালিকা তৈরির সময় ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এর ফলে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাদের জায়গায় অযোগ্য ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী জানিয়েছেন, তিনি দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক যাচাই-বাছাই কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কমিটিতে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হলেও ওপরের চাপের কথা বলে তা মানা হয়নি বলে তিনি জানান। এই কথিত ‘ওপরের চাপ’ কার বা কিসের ছিল, তা স্পষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। এদিকে বঞ্চিত আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বারবার উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর বা প্রতিকার পাননি।
তালিকায় নাম না থাকা কোলকোন্দ ও গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সকল শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছিলেন এবং পরিদর্শনের সময়ও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় পুরো প্রক্রিয়াটি পাল্টে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এই বৈষম্যমূলক ডিলার নিয়োগের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা। অন্যথায় ন্যায়বিচার পেতে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীরা।
এদিকে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কমিটির সভাপতি জেসমিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, যা ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও বেশি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
