ঢাকা ,
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. কৃষি
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. নেদারল্যান্ডস
  12. পর্যটন
  13. বিনোদন
  14. মতামত
  15. মেক্সিকো
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী

Malaysia
অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় ডেস্ক: রাজশাহীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কে একযোগে ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণের কাজ চলায় চলাচলের পথ কোথাও পুরোপুরি বন্ধ, আবার কোথাও অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব খোঁড়াখুঁড়ি ও গর্তে কাদাপানি জমে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে, যার ফলে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই স্থবিরতার কারণে শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি ফ্লাইওভারের কাজ ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হলেও নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে একটিরও কাজ শেষ হয়নি। অধিকাংশ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছর কিংবা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, আর সবচেয়ে বড় শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে রায়পাড়া, বিলশিমলা, বন্ধগেট ও গৌরহাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কগুলোর স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যানবাহনকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন অপসারণে জটিলতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বাধার কথা উল্লেখ করে কাজের অগ্রগতি শ্লথ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে।

ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি রাজশাহী ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজও নগরবাসীর দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তালাইমারী-ভদ্রা সড়ক, বড়বনগ্রাম এবং ছোট বনগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলো কেটে পাইপ বসানোর পর সেগুলোর ঠিকমতো সংস্কার না করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনের চাপে মাটি দেবে গিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই এসব স্থানে কাদাপানির সৃষ্টি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে উড়তে থাকে প্রচণ্ড ধুলোবালি। ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইন বসানোর জন্য ইতিমধ্যে চৌদ্দ কিলোমিটার সড়ক কাটা হয়েছে এবং আরও চৌত্রিশ কিলোমিটার সড়ক কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ওয়াসা সিটি করপোরেশনকে কিছু অর্থ প্রদান করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উন্নয়নকাজের এই ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দৈনন্দিন যাতায়াতে সাধারণ মানুষকে মারাত্মক পোহাতে হচ্ছে। অফিসগামী চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, সামান্য পথ পাড়ি দিতেই দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাজের গতি আরও কমে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্ষাকাল পার হওয়ার পর এবং পাইপলাইন বসানোর কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে ধাপে ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।