আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের প্রতি জোরালো সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি ভারতের জেনজি বা জেনারেশন জেড আন্দোলনকারীদের এই ন্যায়সংগত দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনরত তরুণদের ওপর সকল প্রকার দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার এবং গ্রেপ্তার হওয়া রাজনৈতিক বন্দীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণজাগরণে রূপ নিয়েছিল। সে সময় ছাত্র-নাগরিকদের ওপর নির্বিচার সহিংসতার ফলে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক হাজার চারশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ওই সংকটময় সময়ে ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন চিন্তার মানুষেরা যেভাবে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। ভারতের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মুক্তির লড়াই কেবল তাদের একার নয়, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের জনগণও তাদের পাশে রয়েছে।
ভারতের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা জানান, শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্মের পর প্রজন্মের আন্দোলন তাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান আন্দোলনেও ভারতের নারীরা যেভাবে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এমন একটি সমাজ গঠনের ওপর তিনি জোর দেন, যেখানে জাত, ধর্ম, লিঙ্গ বা শ্রেণির ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
বিবৃতিতে ভারতের কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে বন্দী থাকা রাজনৈতিক কর্মীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। শারজিল ইমাম ও উমর খালিদসহ বহু তরুণ নেতাকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম তাদের সাহসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। পরিশেষে, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে যেকোনো ধরনের বিভাজন ও ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশ্যে দৃঢ় মনোবল বজায় রাখার বার্তা দেন এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।
