অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কা রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য এবং রপ্তানি আয়ে কিছুটা গতি ফিরলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা অর্থনীতির একটি বড় দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অর্থনীতির ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসী আয়ে বা রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত অর্থের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও কিছু আমদানি পণ্যের দাম কিছুটা হ্রাসের ফলে আমদানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে, যা দেশের বহির্বাণিজ্য খাতে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
তবে এসব ইতিবাচক খবরের বিপরীতে দেশের ভেতরে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন শিল্প স্থাপন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। ব্যাংক খাতের অবস্থাও খুব একটা সন্তোষজনক নয়, কারণ খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং তারল্য সংকট পুরো আর্থিক খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যা অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে এই সংকটাবস্থা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে হলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা, দুর্নীতি দমন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে চাঙ্গা করতে হবে। অন্যথায় প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করা সম্ভব হবে না।
