অর্থনীতি ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভার বাগানটুলি এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘আয়েশি’ নামের একটি ব্যতিক্রমী হস্তশিল্প কারখানা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো কাঠের কারখানা চলছে, কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায় বাবলা কাঠের কাঠামোর সঙ্গে টিস্যু দড়ি বুনে তৈরি করা হচ্ছে নান্দনিক আসবাবপত্র। একসময় করপোরেট চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জীবনসঙ্গীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে থিতু হওয়ার পর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন আঞ্জুয়ারা খাতুন। দীর্ঘ কর্মজীবন ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী দড়ির খাট ও অন্যান্য হস্তশিল্প টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
উদ্যোক্তা হিসেবে আঞ্জুয়ারার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল অনলাইনে মৌসুমি আম বিক্রির মধ্য দিয়ে, যা পরে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফেসবুক পাতায় একটি সাধারণ টুলের ছবি পোস্ট করার পর ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় তিনি স্থায়ী কোনো ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। তাঁর স্বামী কারিগরদের কাছ থেকে কাঠ ও দড়ির কাজ শিখে আসার পর দুজনে মিলে হাতে-কলমে হস্তশিল্প তৈরির কাজ শুরু করেন। মাত্র দুই হাজার টাকার একটি টুল তৈরির অর্ডার দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ধীরে ধীরে যুক্ত হয় খাট, দোলনা, ডাইনিং চেয়ার ও সোফাসহ প্রায় পঞ্চাশ ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য।
বর্তমানে আঞ্জুয়ারার কারখানায় উৎপাদিত এসব হস্তশিল্পের পণ্যের দাম আকার ও নকশা ভেদে দেড় হাজার থেকে শুরু করে ষোলো হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে অনলাইন বাজারজাতকরণের পাশাপাশি সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ভিআইপি ব্যক্তিরাও তাঁর তৈরি আসবাবপত্র সংগ্রহ করছেন। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বেকারত্ব দূরীকরণেও এক অনন্য ভূমিকা রেখেছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
ব্যবসার পরিধি বাড়াতে বর্তমানে এই কারখানায় নারী ও পুরুষসহ প্রায় বিশজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আঞ্জুয়ারা খাতুন এখানেই থেমে থাকতে চান না, বরং তিনি পণ্যের নকশায় বৈচিত্র্য এনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও নিজের হস্তশিল্প রপ্তানি করার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর মতে, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য শুরুতেই বিশাল মূলধনের প্রয়োজন হয় না, বরং ছোট পরিসরে শুরু করে পণ্যের মান ঠিক রাখলে ক্রেতার আস্থা অর্জন করা সম্ভব। সরকারি সহায়তা পেলে এই হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের সুনাম কুড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁর স্বামী ও সহযোগীরা।
