যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কঠোর সতর্কবার্তা আসার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি সেভেন। জোটের সদস্য দেশগুলো জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সংকট এড়াতে তারা সম্মিলিতভাবে বাজারে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে উন্নত দেশগুলোর এই মোর্চা।
জি সেভেন জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি এবং ফ্রান্স। এছাড়া এই জোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকেন। নিজেদের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই সদস্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক ঐকমত্যে পৌঁছেছে যে, একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জ্বালানি বা জ্বালানি-জাতীয় পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে তারা বিরত থাকবে। মূলত বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখাটাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং অর্থনীতির নানামুখী চাপে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কঠোর হুশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই জি সেভেনের মতো প্রভাবশালী জোটগুলোর পক্ষ থেকে এমন নমনীয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ এল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জি সেভেনের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ থেকে এই বিপুল পরিমাণ তেল ও ডিজেল বাজারে সরবরাহ করা হলে একদিকে যেমন ঘাটতি দূর হবে, অন্যদিকে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ করাও সম্ভব হবে। জোটের সদস্য দেশগুলো আশা প্রকাশ করেছে যে, তাদের এই যৌথ পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
